বিদেশি শিক্ষার্থী, গবেষক ও সাংবাদিকদের যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের মেয়াদ সীমিত করার নতুন ভিসা নীতির বিরুদ্ধে দেশটির ফেডারেল সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করেছে একাধিক শ্রমিক সংগঠন ও অধিকারকর্মী গোষ্ঠী।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ম্যাসাচুসেটসের একটি ফেডারেল আদালতে মামলাটি করা হয়। মামলায় সংগঠনগুলো বলেছে, নতুন এই নীতি বিশ্ববিদ্যালয়, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য ‘বিপর্যয়কর’ হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের নতুন নিয়মে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের এফ ভিসা, সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচির জে ভিসা এবং সাংবাদিকদের আই ভিসার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
নতুন নিয়ম আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। এতে শিক্ষার্থী ও বিনিময় কর্মসূচির ভিসার মেয়াদ সর্বোচ্চ চার বছর করা হবে। সাংবাদিকদের ভিসার মেয়াদ সর্বোচ্চ ২৪০ দিন এবং চীনা নাগরিকদের ক্ষেত্রে ৯০ দিন নির্ধারণ করা হবে। বর্তমানে এসব ভিসা সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী বা গবেষকের পড়াশোনা এবং সাংবাদিকদের চাকরির মেয়াদ অনুযায়ী বহাল থাকতে পারে।
মামলায় সংগঠনগুলো বলেছে, নতুন নিয়মের কারণে পড়াশোনা শেষ হওয়ার আগেই বৈধ অভিবাসন-স্থিতি হারানোর আশঙ্কায় বিদেশি শিক্ষার্থী ও অন্যান্য অ-অভিবাসীরা যুক্তরাষ্ট্রে আসতে নিরুৎসাহিত হবেন।
তাদের দাবি, এর ফলে শিক্ষার্থীরা সুযোগ হারাবেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো মেধাবী শিক্ষার্থী হারাবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
তবে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের এক মুখপাত্র মামলাটিকে ‘লোক দেখানো’ উদ্যোগ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে আসা শিক্ষার্থীদের নিশ্চিত করতে ভিসা জালিয়াতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ দেননি তিনি।
ইউএস নিউজগিল্ড-সিডব্লিউএর প্রেসিডেন্ট জন শ্লুস নতুন নীতিকে সাংবাদিকদের ওপর আক্রমণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
আমেরিকান ফেডারেশন অব টিচার্সের প্রেসিডেন্ট র্যান্ডি ওয়েইনগার্টেন বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আইন লঙ্ঘনের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ‘রাজনৈতিক হাতিয়ার’ হিসেবে ব্যবহার করছে।