আটলান্টিকসংবাদ ডেস্ক: সামাজিক সংগঠনগুলো যখন সমাজে বসবাসরত মানুষের সামাজিক চাহিদাগুলো বুঝতে পারে এবং চাহিদার ভিত্তিতে সংগঠনের কর্ম পরিকল্পনা তৈরী করে তখনি ধীরে ধীরে সমাজের সাধারন জনগনের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠে।বর্তমানে আটলান্টিক সিটিতে বসবাসরত বাংলাদেশীদের মাঝে বেঙ্গল ক্লাব অফ আটলান্টিক সিটি, তাদের সময়োপযোগী বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রবাসী সাউথজার্সীবাসীদের কাছে ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এবং প্রশংসিত হচ্ছে।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বেঙ্গল ক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আলী চৌধুরী এবং অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন সাধারন সম্পাদক কাজল বারই। প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক পরিচয় পত্রিকার সম্পাদক নাজমুল আহসান, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রকাশিত প্রথম আলোর সম্পাদক ইব্রাহিম চৌধুরী খোকন,প্রথম আলোর নির্বাহী সম্পাদক মনজুরুল হক,এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন অনলাইন নিউজ পোর্টল আটলান্টিকসংবাদের প্রধান সম্পাদক ও আটলান্টিক সিটি প্রেসক্লাবের সভাপতি আকবর হোসাইন, আটলান্টিকসংবাদের প্রকাশক ও সম্পাদক সাংবাদিক মোহাম্মদ শাহিন, স্থানীয় কমিউনিটি সাংবাদিক সুব্রত চৌধুরী, লেখক-সাংবাদিক শেলী জামান খান, রওশন হক,রোকেয়া দীপা এবং ভায়লা সালিনা।

সাংবাদিকবৃন্দ বলেন দেশ ও প্রবাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ন তথ্য প্রদানে সাংবাদিকবৃন্দ নিরলস কাজ করে যাচ্ছে কিন্তু তাদেরকে সঠিক তথ্য প্রদানের ক্ষেত্রে বেঙ্গল ক্লাবের ন্যায় অন্যান্য সামাজিক সংগঠনগুলো যথাযথ ভূমিকা রাখলে প্রবাসীরা আরও বেশী উপকৃত হবে।সাংবাদিকবৃন্দ ইমিগ্রেশন,পর্যটনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রবাসে সাংবাদিকতার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন। বক্তারা ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত ব্যাপারে সতর্কতার সহিত পরিস্থিতি মোকাবেলা করার পরামর্শ দেন এবং মিথ্যার আশ্রয় না নেয়ার ব্যাপারে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানান।


সাংবাদিক ইব্রাহিম চৌধুরী যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রশাসন সম্পর্কে ইতিবাচক ধারনা দিতে গিয়ে বলেন বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসন সম্পর্কে অনেকেরই বিভ্রান্তিকর ধারণা রয়েছে কিন্তু সেটা অনেক ক্ষেত্রে সঠিক নয়। বর্তমানে ট্রাম্পের সরকার যে সকল কর্মকান্ড পরিচালনা করছে আপাত দৃষ্টিতে কঠোর এবং নতুন আইন করেছে মনে করা হলেও এটি এদেশের প্রচলিত এবং অতীতের সৃষ্ট আইন। বর্তমান সরকারের নীতি নির্ধারকরা সেটিকে অনুসরণ করছেন মাত্র। তাই যদি কোন কঠিন সমস্যার সম্মুখীন হলে ন্যায় সঙ্গতভাবে বিচক্ষণতা ও সত্যের উপর দাঁড়িয়ে মোকাবেলা করার পরামর্শ দেন এবং সাংবাদিকদের পক্ষ থকে আইনগত যে কোন প্রকার সহযোগিতার আশ্বাস প্রদন করেন। তিনি বলেন প্রয়োজনে আমার হাত সকল সাহায্যকারীদের জন্য খোলা থাকবে। তিনি আরও বলেন বাংলা সংবাদমাধ্যম ও কমিউনিটি প্রসঙ্গে আলোচকরা বলেন, একটি কমিউনিটি নানা অনুষঙ্গ ও অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠে। উত্তর আমেরিকায় বাংলাদেশি কমিউনিটির বিকাশ ও নির্মাণে বাংলা সংবাদমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলে বক্তারা উল্লেখ করেন। কমিউনিটির অগ্রযাত্রায় দেশে দেশে বাংলা সংবাদমাধ্যম যে অবদান রেখে চলেছে, বর্তমানে সময় এসেছে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সেই অবদানের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার।


উপস্থিত বক্তারা বলেন, দেশের বাইরে বাংলাদেশিদের ঐক্য, সংহতি এবং অগ্রযাত্রার অন্যতম প্রতীক বাংলা সংবাদমাধ্যম। তাই নিজেদের স্বার্থেই কমিউনিটিকে এই সংবাদমাধ্যমের পৃষ্ঠপোষকতা অব্যাহত রাখতে হবে। পর্যটনের শহর আটলান্টিক সিটিতে দাঁড়িয়ে আলোচকরা যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে পর্যটন বিনিময় আরও জোরদার করতে প্রবাসীদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। তাদের মতে, প্রবাসীরা দুই দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক সেতুবন্ধন তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।

সাংবাদিক মোহাম্মদ শাহিন বলেন সংবাদপত্রের মান সমুন্নত রাখার জন্য সাংবাদিক ও প্রকাশকদেরকে তথ্যভিত্তিক ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের দিকে বিশেষভাবে নজর রাখা উচিত। তিনি বলেন এই পেশাকে যেন ব্যক্তিগত হাতিয়ার করে উপরে ওঠার সিঁড়ি হিসাবে কেউ ব্যবহার না করেন এবং এর মাধ্যমে সমাজ যাতে কলুষিত না হয় সেদিকে সবাইকে সুদৃষ্ঠি রাখতে হবে । তিনি বলেন সাংবাদিকদের লেখার মধ্যে ভিন্নতা থাকতে হবে।আমরা যেন প্রতি সপ্তাহে একই সংবাদ অথবা নিজের ব্যক্তিগত সংবাদ প্রচার করে সমাজের মানুষের বিরাগভাজন না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

আলোচনায় আরও অংশ নেন বেঙ্গল ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য পাপলু চৌধুরী,কাজল বারাই,ফেরদৌস ইসলাম,আজিজুল ইসলাম ফেরদৌস, মনির হোসেন, লিখন কাজী,হেলাল হাসান,শাহরু রেজা চৌধুরী,বাদল বারাই,,অপরাজিতা সরকার,আরিফ লিমন,মামুন ইসলাম,আনিসুর রহমান,অপরাজিতা সরকার, রাশিদা আখতার, ফারমিস আখতার, মাহে আলম জেমস,আবু সাঈদ,মাসুম বাউলসহ আরও অনেকে। মধ্যরাতে নৈশ ভোজের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি শেষ হয়।