নিখোঁজের ৬ দিন পর লাশ হয়ে বাংলাদেশে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র শ্রমিকলীগ সভাপতি কাজী আজিজুল হক খোকন। শুক্রবার ৯ সেপ্টেম্বর জুম্মার নামাজের পর নিউইয়র্কে হাজার হাজার মানুষের অশ্রম্নসিক্ত ভালোবাসায় সিক্ত হলেন তিনি। জুম্মার নামাজের পর জ্যাকসন হাইটসের ডাইভারসিটি প্লাজায় অনুষ্ঠিত তার জানাজায় মানুষের ঢল নামে। পার্শবর্তী রাস্তার ওপর দাঁড়িয়ে অনেকে জানাজায় অংশ নেন। জানাজার আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান,তার কর্মস্থল ‘অবকাস’র মালিক হোসেন রানা ও জুয়েল আহমেদ। দীর্ঘ ৩০ বছর পর শুক্রবার রাত ১১টায় এমিরেটস বিমানে তার মরদেহ দেশে পাঠানো হয়েছে। বৈধ কাগজপত্র না থাকায় এই দীর্ঘসময় দেশে যেতে পারেননি। যৌবনে স্বপ্নের আমেরিকায় এসে ৫৭ বছর বয়সে লাশ হয়ে দেশে ফিরছেন চিরকুমার খোকন। তার জন্মস্থান মাগুড়ায় । দেশে তার তিন ভাই ও দুই বোন রয়েছে।

গত ৩ অক্টোবর শনিবার সকাল থেকে কাজী আজিজুল হক খোকনকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। তিনি থাকতেন কুইন্সের কিউ গার্ডেন এলাকায়। দুপুরের দিকে কুইন্সের ইউনিয়ন টার্নপাইক এর কাছে পথচারিরা তাকে রাস্তার পাশে পড়ে থাকতে দেখেন । তারা ৯১১ কল করলে পুলিশ এসে তাকে জামাইকা হাসপাতালে নিয়ে যায়। ডাক্তাররা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। খোকনের পরিচিত বা লাশের কোন ওয়ারিশ না পাওয়ায় হাসপাতাল কতৃপক্ষ বেওয়ারিশ লাশ উল্লেখ করে মর্গে পাঠিয়ে দেয়। রোববার থেকে তার পরিচিতরা অনুসন্ধান শুরু করেন। কিন্তু হাসপাতাল বা পুলিশের কাছে কেউ সন্ধান করেনি। স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মিরা ও তার পরিচতজনরা বলতে থাকেন ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে ধরে নিয়ে যেতে পারে। তাকে খুঁজে পেতে কয়েকটি বৈঠকও করা হয়। গত বুধবার ড.সিদ্দিকুর রহমান জামাইকা হাসপাতালে কল করলে জানতে পারেন খোকন মারা গেছেন ও তাকে ব্রুকলিনের একটি মর্গে রাখা হয়েছে।
বাংলাদেশ সোসাইটি অব নিউইয়র্ক মরহুমের ফিউনারেল খরচ ও বাংলাদেশে প্রেরণের খরচ বহন করছে। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান প্রতিবেদককে বলেন, সোসাইটি খোকনের জন্য এগিয়ে এসেছে। এ জন্য ধন্যবাদ। আমরা দলীয়ভাবে কিছু অর্থ সংগ্রহ করে দেশে তার আত্মীয়স্বজনের কাছে পাঠাবো।
শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ডক্টর সিদ্দিকুর রহমান, শাহানারা রহমান, ডক্টর মাসুদ হাসান, ডক্টর প্রদীপ কর, ডক্টর রাব্বি আলম, মোহাম্মদ শাহিন এমদাদ চৌধুরী, ডক্টর মাহবুবুর রহমান, আবদুর রহিম বাদশা প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।